যখন পৃথিবীর চারপাশে ঘুরন্ত কোনো মহাকাশযানের ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ঠিক করার চেষ্টা করা হয়, তখন একটি বড় সমস্যা দেখা দেয়—তাপ প্রয়োজন, কিন্তু পুরো যানটিকে উত্তপ্ত করা সম্ভব নয়। সাধারণ ওভেনগুলো খুবই ধীরগতির, অত্যন্ত বড় আকারের; আর এত ছোট জায়গার জন্য এগুলো খুবই ব্যয়বহুল। এই কারণেই আমরা শর্টওয়েভ ইনফ্রারেড (SWIR) এমিটার ব্যবহার করি। এটাকে তাপ দিয়ে করা এক ধরনের “শল্যচিকিৎসা” হিসেবে ভাবা যেতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটিকে উত্তপ্ত করার জন্য সময় নষ্ট না করে, SWIR শক্তিটিকে সরাসরি অ্যালয়গুলো বা কম্পোজিট উপাদানগুলোর মধ্যে পাঠায়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে যায়। এটা খুবই দ্রুত হয়। লক্ষ্যমাত্রা তাপমাত্রায় পৌঁছাতে খুব কম সময় লাগে; অর্থাৎ অপেক্ষা করার দরকার নেই। এটা কার্যকর করার জন্য আমরা উচ্চ-ওয়াটেজের কোয়ার্টজ ল্যাম্প ব্যবহার করি। অ্যালয়গুলোর “ম্যাটেরিয়াল মেমরি” সক্রিয় করার জন্য বা কম্পোজিট উপাদানগুলোকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঠিক করার জন্য যথেষ্ট শক্তি প্রয়োজন। কিন্তু সাবধান থাকতে হবে—যদি তাপমাত্রা একটুও বেশি হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটির কাঠামো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আমরা সাধারণত এগুলোকে মডিউলার অ্যারেতে স্থাপন করি। যদি ক্ষতিটি বড় হয়, তাহলে আরও মডিউল যোগ করা হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো—উচ্চ-তাপমাত্রার কেবলিং ব্যবহার করতে হবে। নইলে এমিটার চালু হওয়ার সাথে সাথেই ইনসুলেশনগুলো গলে যাবে। কিন্তু এখানেই সমস্যা রয়েছে। উচ্চ-তীব্রতার ইনফ্রারেড আলো খুবই আক্রমণাত্মক। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি ও ঠান্ডা চেসিসের মধ্যে বিপুল তাপমাত্রার পার্থক্য তৈরি হয়; ফলে ধাতুটিতে অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টি হয়। এটা একটি ভারসাম্যের ব্যাপার। ওয়াটেজ ও তাপ প্রয়োগের সময়কালের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। যদি খুব বেশি ওয়াটেজ দ্রুত প্রয়োগ করা হয়, তাহলে পুরো প্যানেলটি বিকৃত হয়ে যেতে পারে। এই কারণেই ঠান্ডা করার প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। অংশটিকে ধীরে ধীরে ও স্থিতিশীলভাবে ঠান্ডা হতে দিতে হবে; নইলে সব পরিশ্রম ব্যর্থ হয়ে যাবে।